ফেনীতে ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় নিজে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী তারেক হোসেন (১৯)। শুক্রবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত মুস্তারির আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী তারেক হোসেনকে শহরের রাজাঝি দীঘিরপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর চাড়ীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে ফাজিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুল হকের অনুসারী। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল এবং পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজির এক বৈঠকে ছাত্র আন্দোলনে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন-চার শ নেতা-কর্মী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারেক হোসেন জানান, হামলায় অর্ণব, রাকিবসহ ৯ জন গুলি চালিয়েছিলেন।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, আসামি হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি কারা অস্ত্রধারী ছিলেন, কারা গুলি চালিয়েছেন এবং কার নির্দেশে এসব হয়েছে, তা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। এতে কলেজশিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত মাহবুবুলের ভাই মো. মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখসহ ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।
ফেনী মডেল থানায় এ পর্যন্ত ৮টি হত্যা ও ১৩টি হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।