সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বাতিল হওয়া নিয়োগ ফিরে পাওয়ার দাবিতে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা জানিয়েছেন, টানা ১০ দিনের মতো এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। আসাদুজ্জামান নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, তারা দিনে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন, আর রাতে তারা থাকেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। এভাবে তারা ১০ দিন ধরে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মানার বিষয়ে আইনি জটিলতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন তারা এখন চাকরি করছেন। একই প্রক্রিয়ায় তৃতীয় ধাপে নিয়োগ পাওয়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের ২১ জেলার প্রার্থীরা নিয়োগবঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পরও তারা প্রহসনের শিকার হয়েছেন।r
আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে তিন দিন পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করার পাশাপাশি পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাদের ওপর জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করেছিল। ওই দিন পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটাও করে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, তারা নিয়োগপত্র না নিয়ে ঘরে ফিরবেন না।
এর আগে আন্দোলনকারীরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের ১৪ জুন তৃতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। লিখিত পরীক্ষা হয় ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় একই বছরের ২১ এপ্রিল। ১২ জুন সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৬ হাজার ৫৩১ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
সুপারিশপ্রাপ্ত হননি এমন ৩১ জন হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ৬ ফেব্রুয়ারি বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। যদিও গতকাল এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।