শনিবার   এপ্রিল ৫ ২০২৫   ২১  চৈত্র  ১৪৩১


চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর ব্যাবসায়ী জালাল উদ্দীন রোকন পটিয়া থানায় আটক

Mohammad Obaidullah Chowdhury

Updated 25-Feb-21 /   |   চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি   Read : 70
ছবি

জালাল উদ্দিন ওরফে রোকনকে (৪০) কে পটিয়া থানায় আটকের পর মারামারি ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

পরে তাকে এ মামলা আদালতে পাঠানো হয়।বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বনফুল শো-রুম’থেকে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার রোকন কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের (২ নম্বর ওয়ার্ড) মৃত হাজী এটিএম হাশেমের ছেলে।

সে কর্ণফুলী উপজেলার" স্টুডেন্ট কেয়ার মডেল স্কুল" পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, সরকারি সনদপ্রাপ্ত এআই টেকনিশিয়ান, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) চরলক্ষ্যা ইউনিটের টিম লিডার, কর্ণফুলী উপজেলা শুভ সংঘের পরিচালক এবং একজন সফল খামারি ও উদ্যোক্তা।

এদিকে রোকনের পরিবারের অভিযোগ, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোঃ নাজমুন নুর ‘মিথ্যা মামলায়’ তাকে ফাঁসিয়েছেন।পরিবারের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি কুচক্রি মহল ও চাঁদাবাজদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে রোকনকে আটকের পর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে কারণ জানতে চাইলে,পটিয়া থানার ওসি নাজমুন নুর জানান, ‘ডেভিল হান্ট' অভিযানের অংশ হিসেবে রোকনকে আটক করা হয়েছে। তবে জমিজমা সংক্রান্ত কোনো বিষয় তিনি জানেন না। এসময় জেলা পুলিশের মনিটরিং টিম কিংবা এএসপি (ডিবি)-এর সঙ্গে কথা বলতে বলেন ওসি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) রাসেল পিপিএম বলেন, আমি পটিয়া     থানার ওসির কাছ থেকে জানতে পারি রোকন(৪০) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু জানি না।পটিয়ার সার্কেল এসপি মোঃ আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান এবং এ বিষয়ে অবগত নন বলে তিনি জানান।জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃসাইফুল ইসলাম সান্তুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত জানানো হলে তিনি বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আসাদুজ্জামানকে জানাতে বলেন।এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও এএসপি আসাদুজ্জামানের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃআহসান হাবীব পলাশের হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মিলেনি।
এদিকে ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে রোকনের পরিবার সরাসরি পটিয়া থানায় গিয়ে ওসির কাছে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে তিনি তেমন  কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানান স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান,শান্তিরহাট বাজার সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ পুলিশকে ব্যবহার করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে আসল সত্য উদঘাটন হতে পারে।কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দা মুহাম্মদ জসিম ও মহিউদ্দিন বলেন, রোকন কোনো রাজনৈতিক দলের বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। একটি এডিট করা ভিডিওর ভিত্তিতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পটিয়া থানার ওসি তদন্ত ছাড়াই অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর দায়ের হওয়া পটিয়া থানার ৩৪ নম্বর মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলায় ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬(২) পেনাল কোড ও বিস্ফোরক আইনের ৩/৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মোঃ নাজমুন নুরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।