বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে বান্দরবানে আশীর্বাদ সংঘের আয়োজনে জেলা সদরের সাঙ্গু নদীর চত্বরে শুরু হলো ১২(বার)তম বর্ষে যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে ৩ (তিন) দিনব্যাপী মহাপুণ্য শ্রী শ্রী গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান অনুষ্ঠান।
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মহাদেবের জটা থেকেই উত্পত্তি হয়েছিলেন দেবী গঙ্গার। এছাড়া গঙ্গা দশেরার দিনে দান করলে পুণ্য লাভ হয় ও পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদে মোক্ষ লাভ হতে পারে। অনুষ্ঠানে গঙ্গা পূজা, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, ভজন র্কীতন, মহাপ্রসাদ আস্বাদন, গঙ্গা গৌর আরতি, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলনসহ নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টা হতে থেকেই শতশত পুণ্যার্থীরা সাঙ্গু নদীতে গঙ্গা মায়ের চরণে ভক্তি নিবেদন করে পাপ মুক্তির আশায় নদীর স্বচ্ছ পানিতে নেমে বারুনী স্নানে অংশ নেন। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার শতশত সনাতন ধর্মাবলম্বী নর-নারী নদীতে গঙ্গা স্নানের পাশাপাশি গঙ্গা মায়ের জন্য পূজা নিবেদন করেন। নদীতে পূজা দেয়ার পাশাপাশি মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে গঙ্গা দেবীকে প্রণাম নিবেদন করেন। এদিকে গঙ্গা পূজা ও বারুনী স্নান উপলক্ষ্যে পূজাস্থলে চলছে মহানাম সংকীর্তন আর এই উপলক্ষ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা নদীর চরে পসরা সাজিয়ে বসেছে বেচাবিক্রির জন্য।
প্রতিবছর মধুকৃষ্ণা এয়োদশীর তিথিতে মহাপুণ্য লগ্নে সনাতন সম্প্রদায়ের মঙ্গল কামনায় এই গঙ্গা পূজা ও বারুনী স্নানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। উক্ত অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নানা ধর্মীয় আয়োজন শেষে শুক্রবার (২৮মার্চ) সকাল ৮টায় পুষ্পাঞ্জলি শেষে সাঙ্গু নদীতে প্রতিমা বিসর্জন এর মাধ্যমে এবারে বর্ণাঢ্য আয়োজন সমাপ্তি ঘটবে গঙ্গা পূজা ও বারুনী স্নান উৎসবের।