দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত ও গতিশীল করে আধুনিক বন্দর করা প্রয়োজন।বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বব্যাপী এক সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে।
“মেইড ইন বাংলাদেশ”
ট্যাগটি এখন বিশ্ব জুড়ে সুপরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে পোশাক শিল্পের এ অসামান্য অগ্রগতি একদিকে যেমন দেশের জন্য গর্বের বিষয় তেমনি এর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখাও আমাদের জন্য জরুরী।
বাস্তবে পোশাক শিল্প নানাবিধ সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন। উৎপাদন খরচ গত ৫ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০%। নূন্যতম মজুরী ৫৬% বেড়েছে। যা সরাসরি উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও বিদ্যুৎ ৩৩%, গ্যাসের মূল্য ২৮৬%, ডিজেলের মূল্য ৬৫% বেড়ে সার্বিক খরচ উৎপাদন ব্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যহীন হয়ে পড়েছে। এই সকল কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
এই অবস্থায় রপ্তানিকারক তৈরী পোশাক শিল্পের স্বার্থে বন্দরকে সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত করা হবে।
তৈরী পোশাক শিল্প সমিতির সম্মিলিত পরিষদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এস.এম. মনিরুজ্জামান-এর সাথে অদ্য ১৯/০৩/২০২৫ইং তারিখ বৈঠকে মিলিত হয়ে এ’কথা বলেন।
এ’সময় উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএ’র প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এস.এম. আবু তৈয়ব, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রাক্তন সহ-সভাপতি সর্বজনাব এ.এম. চৌধুরী সেলিম, রাকিবুল আলম চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক সর্বজনাব মোহাম্মদ মুসা, অঞ্জন শেখর দাশ, গাজী মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাগণ।
সম্মিলিত পরিষদ এর সভাপতি ও বিজিএমইএ’র প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ বলেন- রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্পের পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্দরের ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছে। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে অর্থ্যাৎ ৮১.২৯% তৈরী পোশাক পোশাক শিল্প থেকে। রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্প কর্তৃক আমদানিকৃত এফসিএল কন্টেইনারের উপর ৪ গুন হারে স্টোররেন্ট আরোপ করেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন ভাবেই কাম্য নহে। আমরা আশা করছি জাতীয় রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিকৃত এফসিএল কন্টেইনারের উপর আরোপিত স্টোর রেন্ট প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় চার্জ আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরো উল্লেখ্য করেন- বন্দরের ইয়ার্ড ভিত্তিক হ্যান্ডলি ইক্যুইপমেন্ট স্বল্পতা ও বর্তমানে এলসিএল পণ্য চালান আমদানী বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিভিন্ন জটিলতায় প্রচুর সময়ক্ষেপন হচ্ছে। ফলে রপ্তানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বন্দর জেটিতে অধিক সংখ্যক এলসিএল শেড নির্মাণ ও শেড সংস্কার পূর্বক সর্বোচ্চ ২/৩ দিনের মধ্যে এলসিএল পণ্য চালান দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।
রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে প্রাইভেট আইসিডি / অফডককে অনৈতিক হারে চার্জ বৃদ্ধি ও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রাইভেট আইসিডি’তে এফসিএল স্থানান্তর না করার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন- বিজিএমইএ’র প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ও নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস.এম. মনিরুজ্জামান- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্পের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ’শিল্প দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পাদনে সচেষ্ট থাকার বিষয়ে নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন এবং নেতৃবৃন্দের যৌক্তিক দাবীর প্রতি জোড় প্রচেষ্ঠা চালাবেন।তিনি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা সমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারগণ সহ সর্বমহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।