বিভিন্ন সময়ে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে মাহমুদা বেগম সোনিয়া বারবার চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের চেষ্টা করেছেন,২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাহমুদা বেগম সোনিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মাহবুব মোরশেদ ও তাঁর তিন সন্তানকে চান্দগাঁও থানায় দুই দিন আটকে রেখে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং হত্যার হুমকি প্রদানের। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেলেও আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী এই পুলিশ কর্মকর্তার দাপটের কমতি ছিলোনা কখনও। চট্টগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-০৩ এর নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বও পেয়েছেন ১৬ বছরের আওয়ামী সুবিধাভোগী বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সোনিয়া। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সুবিধাভোগের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পুরনো মামলার বিষয়গুলো নিয়ে শুরু হয়েছে নানান গুঞ্জন। শিল্পাঞ্চলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাঁকে দায়িত্ব দেওয়াকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, গুরুতর অভিযোগে একাধিকবার আলোচিত একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে আবারও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হলো? বিশেষ করে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, শ্রম পরিস্থিতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন বিতর্কিত অতীত থাকা কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। সেসময় জাতীয় গণমাধ্যমে এ ঘটনায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ওঠে, ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে মামলার অগ্রগতি বা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি এখনো প্রশাসনিক মহলে আলোচিত একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় অনেকের মতে, অতীতের এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি ছিল। এসপি মাহমুদা বেগম সোনিয়ার স্বামী জালাল উদ্দিনকেও ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর পুলিশি প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলে আধিপত্য বিস্তার, তদবির এবং ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন সময়ে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে মাহমুদা বেগম সোনিয়া বারবার চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিশেষ প্রশাসনিক সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। সমালোচকদের মতে, একই অঞ্চলে ঘুরেফিরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।