বান্দরবানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে । তবে শহরের অধিকাংশ প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। মানুষ এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে । এই বানবাসী মানুষরা আশ্রয়কেন্দ্রে খুব কষ্টে মানবেতর দিন পার করছে। তাদের থাকা খাওয়া ও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে । এই দুঃসময়ে রবিবার (১৩ জুলাই), মানবিকতার তাগিদে বান্দরবানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে বান্দরবান সনাতনী যুবসমাজ। সনাতনী যুবসমাজের উদ্যোগে বন্যাকবলিত ৫০০টি পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার (খিচুড়ি) পৌঁছে দেওয়া হয়েছে । এই সময় হাফেজঘোনা, মেম্বার পাড়া, সাঙ্গু উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যাচিংঘাটা, সুইচ গেইট, ওয়াপদা ব্রীজ, উজানি পাড়া, মধ্যমপাড়া, কালাঘাটা এবং বালাঘাটা সহ শহরের বিভিন্ন পানিবন্দি এলাকায় সেচ্ছাসেবকরা খাবার পৌঁছে দেয়। এই সংকটময় সময়ে বান্দরবান সনাতনী যুব সমাজের খাবার বিতরণে দুর্গত এলাকার পানিবন্দি মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যুবসমাজের সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই ত্রাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রমে বান্দরবানের সনাতনী যুবসমাজের স্বেচ্ছাসেবক’রা অংশগ্রহণ করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সাধ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সনাতনী যুবসমাজের সেচ্ছাসেবক’রা আরো জানান, সমাজের অসহায় ও বিপদগ্রস্থ মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা চলমান থাকবে।