শুক্রবার   জুলাই ৩১ ২০২৬   ১৫  শ্রাবণ  ১৪৩৩


পাঁচ মাস বন্ধ জনতা ব্যাংক কর্মীদের গৃহনির্মাণ ঋণ ৮ কর্মকর্তাকে বদলি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণের কার্যক্রম প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন-সংক্রান্ত ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই জমি বা ফ্ল্যাট কেনার অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, স্টাফ হাউস বিল্ডিং ঋণ ও মোটরসাইকেল ঋণ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। তাদের বাইরে আবেদনকারীদের ঋণ অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জনতা ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ (এইচআরডি) থেকে গত ২৩ এপ্রিল জারি করা এক আদেশে আট কর্মকর্তার বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী তারা গত ২৬ এপ্রিল কর্মদিবস শেষে পূর্ববর্তী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। গত ২৬ এপ্রিল ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক খন্দকার মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বদলি আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগদানপত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ইউনিটের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) এস এম খাদেমুল ইসলাম। তাকে ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট, প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে সিনিয়র স্পেশাল প্রিন্সিপাল অফিসার (এসএসপিও) মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে এন্ডইউজ ডিপার্টমেন্ট (জেনারেল), প্রধান কার্যালয়ে এবং প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) সুলতান মহিউদ্দিনকে মহাখালী করপোরেট শাখায় বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে প্রিন্সিপাল অফিসার (ইঞ্জিনিয়ার) জাহাঙ্গীর আলমকে ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট, প্রধান কার্যালয় থেকে বিভাগীয় কার্যালয়, ঢাকা-উত্তরে পরবর্তী পদায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট, প্রধান কার্যালয় থেকে সিনিয়র অফিসার (এসও) মো. মোতাসিম বিল্লাহ্ ও মোহাম্মদ শামশুল ইসলামকে এরিয়া অফিস, ঢাকা-দক্ষিণে পরবর্তী পদায়নের জন্য বদলি করা হয়েছে। একই বিভাগ থেকে সিনিয়র অফিসার আজাদ হোসেনকে সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ইউনিট, প্রধান কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে অন্যদিকে ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট, প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার মো. ফয়সাল সরকারকে ভোলার দরুন বাজার শাখায় বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হোম লোন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে এ বদলি কার্যকর করা হয়েছে বলে ব্যাংক মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যাংকের ভিজিল্যান্স বিভাগ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, স্টাফ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের হয়রানি, অনৈতিক আর্থিক দাবি বা ঘুষের চাপের মুখে পড়েছিলেন কি না। এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিতে আগ্রহী নন। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্টাফ হাউস বিল্ডিং ঋণ কার্যক্রম দ্রুত চালু এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দূর করার দাবি জানান তারা। সংশ্লিষ্ট মহলে আরও আলোচনা রয়েছে, ওয়েলফেয়ার বিভাগ ও বদলি কার্যক্রম নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ব্যাংকিং খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, জনতা ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এদিকে কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, স্টাফ হাউস বিল্ডিং ঋণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান কালবেলাকে বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঋণ বন্ধ নয় শুধু নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ডিভিশন ভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে প্রধান কার্যালয়ের ঋণ, প্রধান কার্যালয় থেকেই দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি ব্যাংকের বোর্ড সভায় ওঠার কথা রয়েছে।

MD SAD MIAH

Updated 26-Jul-30 /   |   সিলেট সদর (সিলেট) উপজেলা প্রতিনিধি   Read : 5